css
client

চেয়ারম্যানের বাণী

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর জ্ঞান হচ্ছে ব্যক্তি ও জাতির মর্যাদার প্রতীক। অর্থাৎ যে ব্যক্তি বা জাতি যত বেশি জ্ঞানী, সে ব্যক্তি বা জাতি তত বেশি মর্যাদাসম্পন্ন ও শক্তিধর। মানবজাতির মর্যাদা অন্য সকল সৃষ্টিগত জাতির চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ হলো-জ্ঞান। শুধু জ্ঞানের শক্তি দিয়েই সবকিছু জয় করা যায়। অন্য কোনো শক্তি দিয়ে নয়। মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো- মানুষ মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। মহান স্রষ্টা সকল মানুষকে জন্মগতভাবেই ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা দিয়েছেন। আর শিক্ষার উদ্দেশ্য ধর্মীয় কিতাব, বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান, ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা ও সত্য উদাহরণ ইত্যাদির তথ্যের মাধ্যমে জন্মগতভাবে পাওয়া জ্ঞানের শক্তিকে (বোধশক্তি) উৎকর্ষিত করা। এজন্য প্রকৃত মানুষ হতে হলে একই সাথে বৈষয়িক ও ধর্মীয় জ্ঞানার্জন আবশ্যক। আমাদের দেশে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা কম নয়, কিন্তু প্রকৃত মানুষের সংখ্যা খুবই নগণ্য। প্রকৃত মানুষ তৈরির মূল শক্তি হলো নির্ভুল জ্ঞান। আর নির্ভুল জ্ঞানার্জনের সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ব্যবস্থা হচ্ছে সঠিক শিক্ষাব্যবস্থা। পদ্ধতিগতভাবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা দিন দিন উন্নত হচ্ছে। নতুন নতুন শিক্ষানীতি ও কারিকুলাম হচ্ছে, কিন্তু একটি জায়গায় আমাদের দুর্বলতা থেকেই যাচ্ছে, তা হলো শিক্ষার্থীদের নৈতিক উন্নয়ন এবং প্রকৃত মানুষ তৈরির একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল ও যুগোপযোগী কর্মমুখী পাঠ্যক্রম। দেশের প্রচলিত ধর্মীয় ও সাধারণ উভয় শিক্ষাব্যবস্থাতেই অপূর্ণতা রয়েছে। ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তি এবং অন্যান্য বৈষয়িক দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। সাধারণ শিক্ষাও সঠিক ধর্মীয় বিষয় থেকে অনেক পিছিয়ে। দুই ধারার শিক্ষিত মানুষই বঞ্চিত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ও কর্মমুখী সঠিক শিক্ষা থেকে। শিক্ষায় মৌলিক ভুল থাকলে মানুষের জন্মগত জ্ঞান অবদমিত হয়। ফলে প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাই সমন্বিত এবং নির্ভুল শিক্ষাই পারে প্রকৃত মানুষ তৈরি করতে। এই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সন্তানদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসবিএ, সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা, যোগ্যতা-ভিত্তিক কারিকুলাম ইত্যাদি এর অন্যতম। এ জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। কিন্তু আমাদের শিক্ষকদের অনেকেই বিষয়গুলো প্রয়োগ করতে পারছেন না এবং আমাদের সন্তানরাও মুখস্থ নির্ভরতা থেকে বের হতে পারছে না। ফলে এসডিজি-৪ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে পূর্ণতা দেওয়া ও মানসম্মত করার লক্ষ্য নিয়ে ইলম ভিশন একাডেমি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা উৎকর্ষের লক্ষ্যে অন্যান্য সকল বিষয়ের পাশাপাশি ক্লাস ওয়ান থেকে শিক্ষার্থীর জন্য কুরআন-সুন্নাহ এবং অন্যান্য ধর্মের শিক্ষার্থীকে ধর্মের মৌলিক জ্ঞান শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কেজি থেকেই সকল শিক্ষার্থীর জন্য বিজ্ঞান শিক্ষা এবং মাতৃভাষায় বিশেষ পারদর্শিতার পাশাপাশি ইংরেজি ও আরবি ভাষা শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে তিন ভাষার সাবলীল ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া ইলম ভিশন একাডেমির তত্ত্বাবধানে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষার জন্য আদর্শ ও দক্ষ শিক্ষক তৈরি এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার পরও ইলম ভিশন একাডেমি'র এ ব্যতিক্রমী যুগোপযোগী উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে একটি নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আমি মনে করি। নৈতিকতা ও দক্ষতাসম্পন্ন দেশপ্রেমিক মানুষ তৈরি করা ইলম ভিশন একাডেমি'র মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং প্রিয় সন্তানদের সুন্দর ভবিষৎ গঠনে সকলের গঠনমূলক পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

হাবিবুর রহমান শামীম

চেয়ারম্যান

ইলম ভিশন একাডেমি